কবিতা

 



ত্রিস্তান আনন্দ 



বিগত আগত পাঁকে আর বাঁকে

এমনই এক ফাগুনফলা রাত

আপেলবন কামরাঙা ডাক হাঁকে

হাতের কোলে আরেক নত হাত


আগুনঘন শ্বাসের সোল্লাসে 

মহাজগতের জরায়ুতে ওঠে ঝড়  

চোখের মণিতে চোখের ছায়া হাসে

আত্মার ঘামে দুই স্নাতকোত্তর


শতরূপা মনু হাওয়া ও আদম

ভরা ছিল সে রাতের ওমে ও কুসুমে

গুগল ডুডলের ছিল না তাড়ম

ঘোরে নয় ঐক্যের অলঙ্ঘ্য উসুমে


ধড় ও ধার একাকার অতলে তল

তুমিও কিম্ভুত আমিও কিমাকার 

একফোটা হলো দুইফোটা জল

জ্বলে উঠি বাঙলায় রাত্রি নিরাকার


মগজে নিউরনছায়া অরণ্যে পাইনি

জিহ্বার বিষের আঁচে ঠোঁট দিশেহারা

সত্তাও জানেনি আত্মাও বোঝেনি

কে আকাশের ফুল কে মাটির তারা


ফণারও মায়া থাকে মায়াপূর্তি বিষ 

নখেও বুক মেলে বুকের দাঁতে মধু

ছোবলের খোল খোলে প্রেমার্ত শিস

নিযুত প্রেমিকা মরে নীড় গড়ে বধু


জুড়িয়ে যাওয়া শরীর আমার পোড়ে

তোমার ছায়ায়ও ভাসে ফাউদের রক্ত 

মাপা আদরের অভ্যাসে শৈত্য বাড়ে

ফ্রেমে কিবা প্রেমে কবিই অবিভক্ত


এসব কথার কথা তুমিই তুরীয় ধ্যানে

তোমারই গর্ভসূত্রে পিতা নাম ধরে

কখনও মর্মে আমি কখনও গহনে

জন্মের ভেদের অভেদে মৃত্যুপ্রহরে


কিছু ব্যথা ভাইরাল 

কিছু সুখ নেটিজেন - 

কূলে আগুন শ্যামের সত্যে

গোলকায়নের নন্দনে তত্ত্বে


১. কলিম খানের বাড়ি বঙ্গযানে ক্লারা খান এবং নয় মার্চের রাত  ও রী মানবী

======================



ক্ষুধা সে জঠর হোক যৌনতা হোক

প্রেম পরমার্থ নয় কাব্য বা শিল্প নয়

সকলেই হতে চায় অজেয় পরাৎপর

কৌপিন আর অন্তবাস খুলে গেলে

মরাগাঙ আর মৃত ঢোঁড়াসাপ দেখি


ফুলের গর্ভকেশরে পরাগ ছড়িয়ে

মধু খেয়ে উড়ে যায় ভ্রমর কোথাও

প্রেমিকার দরজার সাবেকি ছায়ায়

কড়া নাড়ে স্বরাগে প্রেমিকপ্রবর


পুরুষের বীর্যবিক্রম জ্ঞানের অধিক

শাস্ত্রকলা ব্যতীত লীলা ধর্ষকাম সমান

জীবনে ভোলে না কোনো দেহবিনোদিনী

মাধুর্যপরাক্রান্ত প্রথম ধানুকীর নাম


২. তাক না তেজিবোঁ আর জরমে 

======================



বিঁধে (দিয়ে) বেরিয়ে আসা কাঁটার আঁড়ে রক্তের

মাখমমাখম কচকচানি কতকাল মেঘগুড়গুড় করে উঠবে

বর্ষাবিরক্ত খরা কিংবা ভাদরআসক্ত প্লাবনে --

        এই রুহুছাড়া চৈতন্যের সূক্ষ্মকোষে


যে দেখা হয়ে গেছে একবার

কোন কৌশলে কেমন শাবলে দৃষ্টিপাতে ঘা ফেলি

কখনও রেখা কখনও রশ্মি অর্থ বাতলে দেয় -- 

         কী করে মুছবে ভোলা সেই সনাতন আলেখ্য সংহার


যে কথা শুনে ফেলেছ একবার

কোন হাতে কার মুখ চেপে শব্দপাতে ছিপি তুলি

কখনও ফলা-রা কখনও কার-রা শরীরী হয়ে ওঠে -- 

         ও যাদু কী কাজে পেতেছ কান সে কথা ধ্বনির অধিক


যে ছোঁয়া লেগে গেছে একবার

কোন যমুনার কত জলে ধুয়ে সংক্রামণে টিকা দিই

কখনও শ্বাস কখনও রক্ত আঙুল মেলে ধরে -- 

           ওরে ও রাধার চেলা অঙ্গে থাকে না গোপন অঙ্গের ঢেউ


যে স্বপ্ন মেখেছ ধ্যানে একবার

কোন রাত্রি কতটা ভোর হলে জাগরণে ঘোর খুলি

কখনও তৃষ্ণা কখনও মৃত্যু হাত উঁচিয়ে ডাকপাড়ে -- 

          ঘুমে ঝুলো না বনোয়ারি বগদুল পাথারে বাওড়ি বাতাস


যে সুখ মুখ পেয়েছে একবার

কোন ঝামার কেমন ঘর্ষণে দেহাত্ববাদে খিল ভরি

কখনও শিল্প কখনও সংসার মাটিবর্তী ভাপ ছড়ায়, -- 

           চিত্রে পাবে না ছবিয়াল বাতাসের লঘু কি গুরু মাহাত্ম্য


যে ব্যথা হুল ফুটিয়েছে একবার

কোন বৈদ্যের কী ঔষধে জন্মনিয়ন্ত্রণে জাত মারি

কখনও ঘাম কখনও পিঁচুটি সাক্ষী নামে দাঁড়ায় -- 

         দর্শনে মিলবে না মোক্ষ অনুশীলনে যাও

         একবার আউলাইয়া গেলে হবে না হবে না নতুন বুনন


৩. জীবন বুঝিবা ঘরছাড়া আর ঘরখোঁজা

=====================



ভূতের ভিতর সরষে পুরে দেখি 

সরষের ভিতর ভূত আছে কতখানি 

মৃত্যুর তুড়ি জানি এখন ঢালশুমারে 

মেলছে পাখনা মৃত মাকড়ের ঠোঁটে 

কলিজার মোহে অগ্নিভ্রমর ছোটে 


নিজের ছায়ার মানচিত্র শুধু দেখি 

ছাইচাপা জলে বাড়ছে ধোঁয়া যত 

শ্মশান দেখতে কেওড়াতলার ভিড় 

মুখ ফিরিয়ে কবির বারামে ঘোরে 

লাল কলজেটা জ্বলছে কাব্যপোড়ে 


বর্শা ছোটে বর্ষণঘন একলা মেঘে 

বিদ্ধ চাতক ওষ্ঠে বকছে বৃষ্টিবমি 

সংসার যাক সঙ ও সার তো আছে 

এমন অচল টানের বিনুনি ছিঁড়তে 

কে না চায় অমন মৌতাতে ভিড়তে 


আকাশ দেখো আকাশ কত দূরে 

বুকের মাপে দুহাত উপুড় রাখো 

কৈলাসের কষ্ট ঘোচে শক্তির শ্বাসে

মাটির চেয়ে কে পারে ক্ষয়ে যেতে

কার্পাসেরা বসে আছে ফাঁদ পেতে 


এ গাঁয়ের পলিঘাম শালদুধের সমান 

ও ডাঙার বালিরা জেনো শর চুষে খায় 

শাঁস মেরে খোসা ছুড়ে নিমিখে উধাও 

লোমের অতলে জেগে আছি বিশ্বাসে

ভাঙা হাড়গোড় জোড়া একটি আশ্বাসে


৪. আত্মখণ্ডন

====================

Comments